সরকারি চাকরির নিয়োগ বেশ দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। তাই শুধু একটি পরীক্ষা দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। পাশাপাশি অন্যান্য চাকরির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। মাস্টার্স চলাকালীন অবস্থায় বেশ কয়েকটি সরকারি ব্যাংকে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয়েছিল। যদিও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হইনি, তার পরেও হাল ছেড়ে দেইনি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।
Showing posts with label Facebook. Show all posts
Showing posts with label Facebook. Show all posts
Saturday, June 6, 2020
Friday, June 5, 2020
সময় : সুসময় - দুঃসময় ও অসময় (পর্ব ১)
সময় সাধারণত দুই প্রকার - ভালো সময় আর খারাপ সময়।
এছাড়া
অন্য
যা
আছে
সেটি
হল অসময় / ভুল সময় ।
ভালো
সময়
রাস্তার
ফকিরকেও
রাজা
বানিয়ে
দেয়,
আর
খারাপ
সময়ে
ঘটে
ঠিক
তার
উল্টোটা।
কিন্তু
এই
দুই
প্রকার
সময়ের
মধ্যে
এক
অদ্ভুত
মেলবন্ধন
রয়েছে।
কারো
জন্য
ভালো
সময়
তো
অন্য
কারো
জন্য
সেটি
খারাপ
সময়।
আর
সে
জন্যই
বলা
হয়ে
থাকে
- কারো
পৌষ
মাস
তো
কারো
সর্বনাশ।
কখনো
কখনো
ভুল
সময়ে
সঠিক
কোন
ঘটনা
ঘটে
যায়,
আবার
কখনো
সঠিক
সময়ে
ভুল
কিছু
ঘটে
।
Thursday, March 29, 2018
অসমাপ্ত ( ৫ম পর্ব )
এসব কিছু ভাবতে ভাবতে কতক্ষণ যে কেটে গেছে বলতে পারব না। সময়টাকে তখন বড়ই আপেক্ষিক মনে হচ্ছিল। হঠাৎ খেয়াল করলাম অধরা সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে , হয়ত বিশ্রাম নিচ্ছে বা ঘুমানোর চেষ্টা করছে। বাতাসে তার খোলা চুলগুলো বার বার এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিলো , কখনও খানিকটা উড়ছিলো। বাতাসে তার ওই ফর্সা গাল টার উপর মেঘকালো চুল গুলো ছুটোছুটি করছিলো।
আমি ইচ্ছে করেই তার সাথে কিছুটা ঘেঁষে বসলাম যাতে বাতাসে তার ওই মেঘকালো চুল গুলো ছুটোছুটি করতে করতে কিছুটা আমার মুখেও এসে পরে। একসময় তাই হলো , বৃষ্টি ভেজা শীতল বাতাসে তার অর্ধ ভেজা চুলের ঘ্রাণ আমায় পাগল করে দিচ্ছিলো। প্রতিটি প্র:শ্বাসে বুক ভরে সেই ঘ্রাণ নিচ্ছিলাম ; বেশ উপভোগ করছিলাম ব্যাপারটা।
আচমকা পাশ থেকে একটা ধাক্কা অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখি অধরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে মিটি-মিটি হাসছে।
- কি করছিলে হ্যা ? মেয়ে দেখলেই কাছে ঘেঁষতে ইচ্ছে করে ? সরি তুমি করে বলে ফেললাম।
- তাহলে আমিও তুমি করেই বলছি ; আর এখন থেকে তুমি করেই বলবে।
- কেন ?
- কারন কাছের মানুষদের তুমি করেই বলতে হয় ?
- কাছের মানুষ কিভাবে হলো ?
- একটু আগেই তো বললে আমি নাকি তোমার কাছে ঘেঁষতে চাইছিলাম।
- হ্যা , সেটাই তো করছিলে।
- জ্বী না ম্যাডাম , আর আমি মেয়েদের পাশে থাকি যাতে অন্য কেউ তাদের বিরক্ত করতে না পারে।
- আহা , অন্যদের সুযোগ না দিয়ে নিজেই সেটা কর।
- তোমার তাই মনে হয় ? ঠিক আছে , আমি তাহলে অন্য কোথাও গিয়ে বসি।
- দরকার নেই , এখানেই থাকো।
- আবার বলবে না তো সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছি ?
- বলবো না ; তবে বেশি কাছে আসার চেষ্টা করবে না।
ইতোমধ্যেই আমরা ফেরি ঘটে চলে আসলাম। ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে এই এক জায়গা যেখানে বেশির ভাগ সময়ই গাড়ির এক লম্বা লাইন থাকে। যেহেতু অনেক সময় লাগবে ফেরি পার হতে , আর গাড়িও এভাবে লাইনেই আটকে থাকবে অনেকক্ষন ; তাই ভাবলাম একটু বাইরে ঘুরে আসি। অনেকেই নামতে শুরু করেছে , আমি উঠে দাঁড়ালাম। কিছু বলার আগেই অধরাও উঠে দাঁড়াল , একসাথেই বাস থেকে নেমে আসলাম।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট , পদ্মা নদীর পাড়। এমনিতেই জায়গাটা আমার বেশ ভাল লাগে, সাধারণতঃ এই জায়গাটা বেশ শান্তই থাকে। তবে মাঝে মাঝেই বেশ কোলাহলে পূর্ণ হয়ে যায়। আজকেও বেশ কোলাহলপূর্ণ তবে সাথে অধরাকে নিয়ে কেন যেন সে সবের প্রতি কোন খেয়ালই ছিল না।
দুজনে একসাথে হাঁটতে হাঁটতে নদীর কাছাকাছি চলে আসলাম। শীতল বাতাস তো ছিলই সাথে আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিলো ঘন কালো মেঘ ; মনে হচ্ছিলো যে কোন সময় বৃষ্টি নামবে। দুজনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নদীর ঢেউ উপভোগ করছিলাম , পদ্মার উত্তাল ঢেউ। প্রথমে আমিই বলে উঠলাম :
- একটা কথা বলব ?
- কেউ যদি তোমার কাছে আসতে চায় তাকে কি তুমি দূরে সরিয়ে দাও ?
- কেন বলতো ?
- কেন যেন মনে হচ্ছে তাই বললাম।
- ঠিক দূরে সরিয়ে দিই না ; তবে কাছে আসতেও ভয় হয়।
- কেন ? কিসের ভয় ?
- একসময় যারা আমার অনেক কাছের ছিল তারা এখন আমার থেকে অনেক দূরে।
যাদেরকে ভালবেসে কাছে টেনে নিই কেন যেন তারাই আমাকে কষ্ট দিয়ে দূরে চলে যায়।
- আমাকে কি একটা সুযোগ দেয়া যায় ? কথা দিচ্ছি কখনও কষ্ট দিব না , দূরেও সরে যাব না।
আর আমি যতক্ষণ তোমার পাশে আছি , কোন ভয় নেই তোমার।
বুঝতে পারছিলাম অধরার ভয়টা ঠিক কোথায়। আসলে পছন্দের আর ভালবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া কষ্ট কতটা যন্ত্রণাদায়ক সেটা শুধু মাত্র সেই অনুভব করতে পারে যে এই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। নারী জীবনের সুখ-দুঃখ ভরা কথা নিয়ে তো অনেক রচনাই হয়েছে যুগ যুগ ধরে। মধ্যযুগেও এমন অনেক রচনা দেখা যায় , যেমনঃ বারোমাসি, ব্রতকথা ইত্যাদি। কবি সেই যুগেও বলেছিলেনঃ
জনম দুঃখিনী আমি দুঃখে গেল কাল।
যেই ডাল ধরি আমি ভাঙে সেই ডাল।।
অধরা আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিল ; তারপর অন্যদিকে ফিরে তার হাসিটা আড়াল করতে চাইল। এর মধ্যেই আবার মৃদু বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। অধরা খানিকটা চুপ করে থেকে বলে উঠল :
- এতো তাড়াহুড়ো করছেন কেন জনাব ? আমাকে একটু ভাবতে সময় দিন।
- আবার হারিয়ে যাবে না তো ?
- আবার হারিয়ে যাবে না তো ?
- হারাবো না ; এখন চলো বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।
আমরা ঘাটের পাশেই কোন এক দোকানের ছাউনিতে আশ্রয় নিলাম। বৃষ্টি যে আসবে সে তো আর আমার অজানা ছিলো না , তার সাথে যে আমার সখ্য বহু দিনের। আর নারীদের মাঝে মনে হয় হিংসা আর স্বার্থপরতা একটু বেশিই থাকে। তারা তাদের পছন্দের আর ভালোবাসার কাউকে অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করতে চায় না।
- আমার ক্ষুধা লেগেছে , তুমি কি খাবে বলো ?
- আমার খুব একটা লাগেনি তো।
- যাইহোক , তুমি না খেলে আমার ভালো লাগবে না।
- ঠিক আছে , কিন্তু আমি তোমাকে খাওয়াবো।
- জ্বী না ম্যাডাম। প্রথম বার আমিই খাওয়াবো। এখন কি খাবে বলো।
- আমার বৃষ্টিতে ভিজে আইসক্রিম খেতে ইচ্ছা করে।
- ঠান্ডা লাগবে তো।
- লাগুক , তবুও খাব।
- বুঝেছি , ডাক্তার আপা অসুখকে ভয় পায় না।
তারপর তার জন্য তারই পছন্দের আইসক্রিম নিয়ে এলাম। ঠান্ডা বৃষ্টিতে ভিজেও দুজনে আইসক্রিম খেলাম। ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে একজন অপরকে জড়িয়ে ধরে রাখলাম। অধরার অবস্থা দেখে আমারই ভয় লাগছিলো। বৃষ্টির মনে হয় তার এই সতীনকে ভাল লাগেনি। তাই থামবার কোনো নাম গন্ধও নেই। আমি বললাম :
- চলো এবার গরম কিছু খাই , চা অথবা কফি। তোমার নিশ্চই ঠান্ডা লাগছে।
- ঠিক আছে চলো। তবে এবার কিন্তু আমি খাওয়াবো।
আমরা চা আর সেদ্ধ ডিম্ খেলাম। বাস ততক্ষনে ঘাটের বেশ কাছেই চলে এসেছে। আমরাও আর দেরি না করে বাসে উঠে পড়লাম।
( চলবে )
[ বি. দ্র: এই গল্পের চরিত্র ও ঘটনাবলীর সাথে কারও ব্যাক্তিগত জীবনের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য খোঁজাটা নিরর্থক, কারও সাথে কোনভাবে মিলে গেলে তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র। ]
Tuesday, February 14, 2017
বসন্ত ও ফেব্রুয়ারি
আমরা বাঙালিরা সাংস্কৃতিক দিক থেকে খুবই উদার মনের আর তাই খুব সহজেই বিদেশি সংস্কৃতি গুলোকে আপন করে নিতে পারি। ইংরেজি ফেব্রুয়ারি (February) মাসের বিশেষত্ব এখন আর শুধুই ২১ শে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সত্যি বলতে কি এখনকার যুবসমাজ এই দিবসটি সম্পর্কে কতটা জ্ঞান রাখে সেই বিষয়েও হয়ত অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারে। গত বছর টিভিতে দেখলাম, ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা এক তরুণীকে প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে কি হয়েছিল ?
তারপর আর নাই বা বললাম; বুঝতেই পারছেন যে সেই প্রশ্নের উত্তরে তরুণী এক নতুন ইতিহাস তৈরী করেছিল যা শুনলে হয়ত আমাদের ইতিহাসবিদগণ নিজেরাই ইতিহাসে পরিণত হয়ে যেতে পারেন। তবে আমাদের তরুণ সমাজ যা করেছে তা হল পুরো ১ সপ্তাহ ব্যাপী বিশ্ব ভালবাসা দিবস তথা ভালবাসা সপ্তাহ পালন। ভাবছেন, বিশ্ব ভালবাসা দিবস তো শুধু ১৪ ই ফেব্রুয়ারি তাই না ? তাহলে একনজর দেখে নিন সম্পূর্ণ ভালবাসা সপ্তাহটিকে :
Rose Day – February 7
Propose Day – February 8
Chocolate Day – February 9
Teddy Day – February 10
Promise Day – February 11
Hug Day – February 12
Kiss Day – February 13
Valentine’s Day – February 14
ভালবাসা দিবস বলে কথা ! মাত্র ১ দিনে কি আর হয় ? আমি মনে হয় কিছুটা পুরোনো জেনারেশনের মানুষ তাই হয়ত এই দিনটির মাহাত্ম সঠিকভাবে এখনও বুঝতে পারি নাই। আমার মত আরো যারা আছেন তাদেরই বলছি, চলুন ভালবাসা সপ্তাহ সম্পর্কে একটু বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।
প্রথমেই আসা যাক Rose Day (February 7) এর কথায়। এই দিন প্রেমিক-প্রেমিকা পরস্পর লাল গোলাপ বিনিময় করে নিজেদের ভালবাসার প্রকাশ ঘটায়। যদিও এই কাজটি এখন একতরফা ভাবে শুধু প্রেমিকগণই করে থাকে। লাল গোলাপকে মনে করা হয় ভালবাসার প্রতীক (যেমনঃ সাদা গোলাপ শান্তির প্রতীক, হলুদ গোলাপ মিত্রতার প্রতীক)। ইংরেজি 'Rose' এর বর্ণ গুলোকে বিন্যাস করলে একটি হয় 'Erose' আর গ্রীক মিথ অনুযায়ী ইরোস হচ্ছে প্রেমের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। আর ভালবাসা সপ্তাহের শুরুতেই এই দেবীকে খুশি করার প্রয়াস করা হয়ে থাকে।
Rose Day দিয়ে ভালবাসা সপ্তাহ শুরু হবার পরদিনই হচ্ছে Propose Day (February 8) অর্থাৎ, লাল গোলাপ দেয়ার পর সঙ্গত কারনেই প্রেম নিবেদন করার বিষয়টি চলে আসে আর তাই এই দিনটির অবতারনা করা হয়।
Propose Day এর পর (প্রেম নিবেদনে সফল হওয়ার পর) Chocolate Day (February 9), এই দিনে সম্ভবত প্রেমিক-প্রেমিকাগণ একটু মিষ্টিমুখ করে। তাছাড়া এই যুগের তরুণীরা যেহেতু চকলেট খুব পছন্দ করে (তাই হয়ত ইদানিং চকলেট ফ্লেভারের প্রচলন বেশি) তাই মিষ্টিমুখ করার জন্য চকলেটই সবথেকে বেশি মানানসই।
মিষ্টিমুখ তো করা হয়ে গেল, মিষ্টিমুখ করলে একটা গিফট তো দিতেই হয়; তাই Teddy Day (February 10) এর প্রচলন। কেননা, রমণীদের কাছে Teddy Bear (এক প্রকার খেলনা ভালুক) খুবই প্রিয়। আমার কথা বিশ্বাস না হইলে একটা ভালুক কিনা কোন রমণীকে উপহার দিয়াই দেখেন !
অনেক কিছুই তো হইল, এইবার একটা কমিটমেন্ট দরকার। Promise Day (February 11) তে সেই প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হয়।
এরপর আসে Hug Day (February 12), প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবার পর সেটাকে আরও জোরদার করার প্রয়াস আর কি !
তারপর হচ্ছে Kiss Day (February 13), এর সম্পর্কে আর আলাদা ভাবে বলার কিছুই নেই; নাম দেখেই বুঝতে পারছেন। পাশাপাশি আবার এই দিন হচ্ছে বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ ১লা ফাল্গুন। তরুণ-তরুণীরা হলুদ পোশাকে বসন্ত উৎসবও এই দিনেই পালন করে থাকে।
কেউ একজন বলেছিলেন এইদিন হচ্ছে তাদের হলুদ সন্ধ্যা আর পরদিন (১৪ই ফেব্রুয়ারী) তাদের বিয়ে। আমাদের তরুণ-তরুণীরা আবার যে কোন দিবসকেই তাদের প্রেমের জন্য উপযুক্ত দিন হিসেবে ঠিক করে নিতে সিদ্ধহস্ত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে যে কোন দিবস কিংবা রজনী সবই তাদের প্রেমের জন্য উপযুক্ত অর্থাৎ, সবই ভালবাসা দিবস (কিংবা রজনী)।
যাইহোক, এতক্ষন পর্যন্ত যে সকল Day এর কথা বলা হয়েছে তার প্রচলন মূলত ভারতীয় উপমহাদেশেই বেশি এবং এগুলোর ঐতিহাসিক তেমন কোনো মর্যাদা নেই; তবে Valentine’s Day (February 14) প্রায় সারা বিশ্বেই একযোগে পালন করতে দেখা যায়। এই দিন মূলত প্রিয়জনদের উপহার হিসেবে valentine card দেয়া হয়।
এই দিনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়: সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম অনুসারে এ দিনের নামকরন তবে ক্যাথলিক চার্চ অনুযায়ী কমপক্ষে তিনজন সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম পাওয়া যায়।
শুরুতেই বলতে হয় প্রায় সাড়ে সতেরশো বছর পূর্বের একজন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের কথা। ২৭০ সালের তখনকার দিনে ইটালীর রোমে শাসন করতেন রাজা ক্লডিয়াস-২, যিনি মোটেই ভাল শাসক ছিলেন না। সাধারন জনগন তাকে চাইত না। রাজা তার সুশাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাজ দরবারে তরুন যুবকদের নিয়োগ দিলেন। আর যুবকদের দায়িত্বশীল ও সাহসী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি রাজ্যে যুবকদের বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন। কারন, রাজা বিশ্বাস করতেন বিয়ে মানুষকে দূর্বল ও কাপুরুষ করে। বিয়ে নিষিদ্ধ করায় পুরো রাজ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলো। এ সময় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক জনৈক যাজক গোপনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করলেন; তিনি পরিচিতি পেলেন 'ভালবাসার বন্ধু' বা ‘Friend of Lovers’ নামে। কিন্তু তাকে রাজার নির্দেশ অমান্য করার কারনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে আটক করা হল। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। জেলে থাকাকালীন ভ্যালেন্টাইনের পরিচয় হয় জেল রক্ষক আস্ট্রেরিয়াসের সাথে। আস্ট্রেরিয়াস জানতো ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা সম্পর্কে। তিনি তাকে অনুরোধ করেন তার অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে। ভ্যালেন্টাইন পরবর্তীতে মেয়েটির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এতে মেয়েটির সাথে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু’জন প্রাণ খুলে কথা বলত। এভাবে এক সময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। রাজা তার এই আধ্যাত্মিকতার সংবাদ শুনে তাকে রাজ দরবারে ডেকে পাঠান এবং তাকে রাজকার্যে সহযোগীতার জন্য বলেন। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা না তোলায় সহযোগীতায় অস্বীকৃতি জানান। এতে রাজা ক্ষুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করেন। মৃত্যু দন্ডের ঠিক আগের মূহুর্তে ভ্যালেন্টাইন কারারক্ষীদের কাছে একটি কলম ও কাগজ চান। তিনি মেয়েটির কাছে একটি গোপন চিঠি লিখেন এবং শেষাংশে বিদায় সম্ভাষনে লেখা হয় ‘From your Valentine’ এটি ছিলো হৃদয়বিদারক। অতঃপর ১৪ ই ফেব্রুয়াররি, ২৭০ খৃঃ ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
রোমান ঐতিহ্য অনুসারে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে পালিত হত পৌত্তলিক রোমানদের উৎসব Lupercalia । ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ বা মধ্য ফেব্রুয়ারিতে পালিত হত এ উৎসব। নতুন জন্মের এ উৎসব নিবেদিত হত রোমান কৃষির দেবতা 'ফোনাস'র উদ্দেশ্যে । রোমান পূরোহিতদের বলা হত 'লুপারসি'। কথিত আছে রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রেমুস এবং রোমুলাস কে পাহাড়ের গুহাতে লালনপালন করে নেকড়ে বাঘ 'লুপা' সেই পবিত্র গুহাতে লুপারসিরা মধ্য ফেব্রুয়ারিতে সমবেত হতেন। সেখানে নতুন জন্মের আশীর্বাদ চেয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে পাঠা বলি দেওয়া হত আর আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে বলি দেওয়া হত কুকুর। পাঠার সে চামড়া রক্তে ভিজিয়ে তা দিয়ে যুবতীদের এবং শস্য ক্ষেত্রকে স্পর্শ করা হত। তাদের বিশ্বাস ছিল যে এই স্পর্শ ভূমি এবং যুবতীদেরকে আরো ফলদায়ীনি করবে। বিকেলের দিকে কুমারী যুবতিদের নাম চিরকুটে লিখে একটি পাত্রে বা বাক্সে জমা করত। অতঃপর ঐ বাক্স হতে প্রত্যেক যুবক একটি করে চিরকুট তুলত, যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত, সে পূর্ণবৎসর ঐ মেয়ের প্রেমে মগ্ন থাকত। আর তাকে চিঠি লিখত, এ বলে ‘প্রতিমা মাতার নামে তোমার প্রতি এ পত্র প্রেরণ করছি।’ বৎসর শেষে এ সম্পর্ক নবায়ন বা পরিবর্তন করা হতো। এ রীতিটি কয়েকজন পাদ্রীর গোচরীভূত হলে তারা একে সমূলে উৎপাটন করা অসম্ভব ভেবে শুধু নাম পাল্টে দিয়ে একে খৃষ্টান ধর্মায়ণ করে দেয় এবং ঘোষণা করে এখন থেকে এ পত্রগুলো ‘সেন্ট ভ্যালেনটাইন’-এর নামে প্রেরণ করতে হবে। কারণ এটা খৃষ্টান নিদর্শন, যাতে এটা কালক্রমে খৃষ্টান ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। ৫ম শতাব্দীতে পোপ গেলাসিয়াস ১৪ ই ফেব্রুয়ারিকে 'সেন্ট ভ্যালন্টাইন দিবস' হিসেবে ঘোষনা করেন।
তবে এটি ভালবাসার দিন হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে সময় লেগেছে আরো অনেক বছর। মধ্যযুগে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সে বিশ্বাস ছিল যে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি থেকে সে দেশে পাখীদের প্রজনন শুরু। সে বিশ্বাস সাহায্য করেছে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভালবাসার দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে । ১৪ই ফেব্রুয়ারির ভ্যালেন্টাইন দিনের সবচে পুরনো লেখা হল লন্ডনের বৃটিশ লাইব্রেরীতে রক্ষিত অর্লিয়ান্সের ডিউক, চার্লসের কবিতা। এজিনকোর্টের যুদ্ধে পরাজয়ের পর টাওয়ার অফ লন্ডনে বন্দী থাকা অবস্থায় ডিউক ১৪১৫ সালে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেন সে কবিতা। এর কয়েক বছর পর ইংল্যান্ডের রাজা হেনরী-৫ প্রেমিকা ক্যাথরিন ভালোয়ার উদ্দেশ্যে ভ্যালেন্টাইন দিবসে কবিতা লেখান লেখক জন লিন্ডগেটকে দিয়ে। এছাড়াও ১৪'শ শতকের রোমান্টিক কবিদের ভূমিকাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আমাদের দেশে ১৯৯৩ সালের পূর্বে এই দিবসের খুব একটা প্রচলন ছিল বলে ধারণা পাওয়া যায় না। এখনকার দিনের তরুণ-তরুণীরা এর ইতিহাস সম্পর্কে কতটা জানে সে বিষয়ে আমার ধারণা নেই তবে এই দিবসের ক্রমাগত বিবর্তন এবং ১ দিন থেকে ১ সপ্তাহে পরিণত হওয়া ইত্যাদি আসলে আমাদের জন্য কতটা ভাল নাকি খারাপ সে বিষয়ে এখনই আমাদের ভেবে দেখা দরকার।
Friday, September 2, 2016
অসমাপ্ত ( ১ম পর্ব )
সঠিক দিন, তারিখ, ক্ষণ কোন কিছুই মনে নেই। কেবল এতটুকুই মনে আছে সেদিন আকাশ থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরেছিল। হয়ত প্রকৃতিও আমাদের প্রথম সাক্ষাৎকে তার অনিন্দ্যসুন্দর ভঙ্গিমায় উদযাপন করে নিয়েছিল। অনেক কারনেই ঢাকার বাইরে অন্য যে শহরটাতে আমার সবথেকে বেশি ভ্রমন করা হয়েছে সেটি হল খুলনা শহর। আর খুলনা শহরে আমার ফেলে আসা অনেক স্মৃতির মধ্যে সবথেকে পছন্দের স্মৃতিই ছিল তার সাথে কাটানো কিছু সময়।
আমি জানি না তার নামটি কি ছিল, জিজ্ঞাসা করিনি, হয়তোবা তাকে হারিয়ে ফেলার কথাটাও তখন চিন্তা করিনি। যাইহোক, লেখার সুবিধার্থে আর পাঠকের কাছে লেখাটি সহজবোধ্য করার জন্য তার একটা নাম দেয়া প্রয়োজন মনে করছি। আমার জীবনে অনেকটা স্বপ্নের মতোই সে এসেছিল, যে স্বপ্নের ব্যাপ্তিকাল ছিল মাত্র সাড়ে ছয় ঘন্টা। সেই স্বপ্ন, যা ছিল কাল্পনিক, অলীক যাকে আজও শুধু আমিই অনুভব করতে পারি। তাকে ধরা যায় না বা ছোঁয়া যায় না, তাই তার নাম দেয়া যাক অধরা।
সকাল সকাল নাশতা সেরে বেরিয়ে পড়েছিলাম মেস থেকে। সকাল পৌঁনে দশটায় বাস ছাড়বে খুলনা শিববাড়ি মোড় থেকে তারপর দশটায় সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদেশ্যে ছেড়ে যাবে। গতরাতেই কথা হয়েছিল সেই অনুযায়ী আমার সাথে আমার মতো আরও এক হতভাগার একই বাসে যাবার কথা ছিল। কিন্ত সকালেই সে ফোন করে জানিয়ে দিল যেতে পারছে না, অতি মাত্রায় সিরিয়াস শিক্ষার্থী হলে যা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা সে তো আমারও ছিল। সব কিছু জলাঞ্জলি দিয়েই তো দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে কবে ছুটি দিবে তার জন্য আমার পক্ষে অপেক্ষা করা সম্ভব নয়, তার থেকে বরং আমিই কিছুদিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ছুটি দিয়ে দিলাম। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কেন স্কুল কলেজে থাকতেও আমার এই ছুটি দেয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। কেউ আসুক বা নাই আসুক, ছুটি পাক বা নাই পাক আমি আপাতত এই প্যারাময় জীবন থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে ঘুরে আসি।
কাউন্টারে পৌঁছে আবারও সেই হতভাগাকে ফোন দিলাম তারপর তার টিকেটটা বাতিল করে আমি বাসের উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এ.কে ট্রাভেলস এর কাউন্টার, ঢাকা-খুলনা রুটের এক অপ্রতিদ্বন্দী বাস সার্ভিস। বেশিরভাগ সময় এই বসেই আসা-যাওয়া করতাম তাই এখানকার লোকজনও পরিচিত ছিল। ফোনে আগেই বলে রেখেছিলাম তাই নতুন করে আর কিছু বলারও প্রয়োজন হয়নি। বাস আসতে আরও প্রায় ২৫ মিনিট লাগবে। পরিচিত থাকায় কিছু এক্সট্রা সুবিধা পেতাম, ওরা চা অফার করল আমিও চা খেতে খেতে ঐ দিনের পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছি। হঠাৎ দেখলাম এক সুন্দরী রমণী কাউন্টারে এসে রানিং বাসের টিকেট চাইছে। সম্ভবত যেই টিকেটটা আমি একটু আগে বাতিল করেছিলাম সেটিই একমাত্র খালি সিট্ ছিল, না হলে হয়ত কোন কারনে ঐ সিটটাই তার পছন্দ হয়েছিল, কে জানে? কাউন্টারের লোকটা বলছিল যে এই সিটটা একটু আগেই বাতিল করা হয়েছে তাই তাকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে নয়ত পরবর্তী বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হত।
যাইহোক, আমিও চা শেষ করে উঠে পড়লাম আর বাস আসতে যেহেতু আরও বেশ কিছুটা সময় বাকি তাই বাইরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালাম। সকাল থেকে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও এতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল না। বাতাসের গতি-বিধিতেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই বৃষ্টি শুরু হবে। আমিও তাই বৃষ্টির অপেক্ষা করতে লাগলাম। বৃষ্টি আসবে আর আমি ভিজব না এমনটা আবার হয় নাকি? তাহলে তো শুধু আমার না বৃষ্টিরও খারাপ লাগবে।
ছোটবেলা থেকেই আমি বৃষ্টিবিলাসী, বৃষ্টির সাথে যেন আমার অনেক পুরোনো দিনের সখ্য। তাছাড়া আমার জীবনের সবথেকে বড় দুর্ঘটনাটি তখনও ঘটেনি তাই এখনকার মত বৃষ্টিকে এড়িয়ে চলতাম না সেই সময়। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কল্পনায় হারিয়ে যাওয়াটাই তখন স্বাভাবিক ছিল যেমনটা এখন আমার কাছেই কল্পনার বিষয় মনে হয়। এখন যদি বৃষ্টিতে ভিজতে হয় তবে সেটা একান্ত বাধ্য হয়েই ভিজতে হয়, যখন অন্য কোন উপায়ান্তর থাকে না। তাছাড়া এখন এই বৃষ্টি আর আমাকে সেই পুরোনো দিনের আবেগ, অনুভূতি দিতে পারে না। পুরোনো সেই সময়ের সাথে পুরোনো সেই বৃষ্টিটাও যেন হারিয়ে গেছে।
ঝড়ো বাতাস বইছে, রাস্তায় ছুটছে সবাই। যে যেখানে পারছে আশ্রয় নিচ্ছে। যদি এখন সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ ব্যাগটা না থাকত আর যদি ঢাকার উদ্যেশে রওয়ানা না দিতাম তবে ঝড়ো বাতাস উপেক্ষা করেই বৃষ্টিতে ভিজতাম। আমি সকলের শেষে অর্ধেকটা ভেজা অবস্থায় কাউন্টারে প্রবেশ করলাম। সে সময় কাউন্টারে আমরা তিন চার জন লোক ছাড়া আর তেমন কেউ ছিল না। দেখলাম সেই সুন্দরী রমণীটি কাউন্টারের সামনে এক কোনায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করছে। ঝড়ো বাতাসে তার বাঁধনহারা এলোমেলো চুলগুলো তাকে বড্ড বিরক্ত করছিল। তবুও সে তার দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে ছিল ঐ সুদূর আকাশপানে, যেখান থেকে মেঘ গুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ছে। এই সুনয়না, এলোকেশী, সুহাসিনী, অপরূপা রূপসীই হচ্ছে অধরা।
( চলবে )
[ বি. দ্র : এই গল্পের চরিত্র ও ঘটনাবলীর সাথে কারও ব্যাক্তিগত জীবনের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য খোঁজাটা নিরর্থক, কারও সাথে কোনভাবে মিলে গেলে তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র। ]
Monday, August 8, 2016
খাইয়া ছাইড়া দিমু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্স পড়ার সুবাদে বেশ কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব পেয়েছিলাম। মজার ব্যাপার হল এদের সবারই কিছু বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, বলা যেতে পারে Unique Characteristics. এরকমই একজন ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মানী। যিনি আরও বেশ কয়েকটি নামে আমাদের মাঝে পরিচিত ছিলেন যেমন :
গামছা মানী - গামছার মাধ্যমে বিশেষ কার্য সম্পাদনে দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ এই নাম দেয়া হয়।
মানী স্যার - তার মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ স্যাররাও তাকে স্যার বলে ডাকত।
মানী দ্যা লিচু - এর ব্যাখ্যা আপাতত সেন্সর করা হল।
ফট্টি (40) মানী - কোন এক দুপুরে জনসম্মুখে তার শক্তি প্রদর্শনের কারনে এই নাম দেয়া হয়।
আসলে এইসব নামের ব্যাখ্যা দিতে গেলে, অর্থাৎ নাম করনের সার্থকতা আলোচনা করতে গেলে এক একটা মহাকাব্য রচনা করতে হবে। তাই আপাতত সেদিকে না গিয়ে তার একটা বিশেষ ডায়লগ নিয়ে আলোচনা করা যাক। আর সেই বিশেষ ডায়ালগটি হল 'খাইয়া ছাইড়া দিমু'। বিশেষ কিছু প্রেক্ষাপটে তার মুখ থেকে বিশেষ এই ডায়ালগটি শোনা যায়। তাহলে চলুন দেখা যাক কি সেই প্রেক্ষাপট আর আসলে সে কি খাবে আর কি ছাড়বে !
আমরা দুজনেই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারনে প্রায় সময়ই একসাথে আসা যাওয়া করতাম, আড্ডা দিতাম বা ঘোরাফেরা করতাম। বিভিন্ন সময় তার সাথে কথোপকথনে একই ধরনের কিছু কথার পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রেক্ষাপট অনেকটা একই হবার কারণে এই ঘটনা গুলোকে একই ক্ৰমে তুলে ধরা হল।
ঘটনা ১ ( ২০১২ সাল )
আমি, মানী এবং আশেপাশে আরও অনেক
বন্ধুরাই ছিল। সবাই কার্জন হলের সামনে বাস ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য
করলাম মানী কোন এক রমণীর দিকে বার বার দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম :
- কিরে কি দেখছিস ?
পছন্দ হইছে নাকি ?
- আরে নাহ ! খাইয়া ছাইড়া
দিমু ।
ঘটনা ২ ( ২০১৪ সাল )
আমি আর মানী
রিকশায় করে যাচ্ছিলাম সম্ভবত নীলক্ষেত বা আজিমপুরের উদ্দেশে। সামনে কোন এর রমণীর দেখা পেয়ে তার প্রতি ইঙ্গিত
করে মানী বলছিল :
- দেখ, শালি একটা মাল ।
- চেহারা তেমন একটা ভাল না ।
[ আমার কাছে রমণীর চেহারা
বিশেষ ভাল না লাগলেও ভাল ফিগারের অধিকারিণী ছিল ]
- আরে চেহারা দিয়া কি হইব ? খাইয়া ছাইড়া দিমু ।
ঘটনা ৩ ( ২০১৬ সাল )
আমি, রিয়ান ভাই
আর মানী কার্জন হলের সামনে বাস ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমি আসার আগেই কিছু একটা ঘটে গিয়েছিল আর সেই
ব্যাপারেই মানী আর রিয়ান ভাইয়ের মাঝে কথা হচ্ছিল।
- ভাই যেই মেয়েটার টাকা পড়ে গিয়েছিল ঐ মেয়েটার চেহারা কেমন ছিল খেয়াল করছিলেন ?
ভাল ছিল ?
- আমি খুব একটা খেয়াল করি নাই ।
- আমিও দেখি নাই ।
- তবে ভাল ছিল না মনে হয় ।
- ব্যাপার নাহ ! খাইয়া ছাইড়া দিমু ।
যাইহোক, আমার জানামতে এই ঘটনা গুলো এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। আদৌ সে কি খেয়েছিল, কি না খেয়েছিল কিংবা ছেড়ে দিয়েছিল নাকি ধরেছিল তা আমার জানা নেই। বলতে পারেন এগুলো আমাদের সমাজের নিত্য দিনের ঘটনা। এতে হয়তো কোন ব্যাক্তি বিশেষের ক্ষতি না হলেও নিজেদের চিন্তা-চেতনার ক্ষতি ছাড়া কোন বিশেষ লাভ হয় না।
সব মানুষের পছন্দ-অপছন্দ একরকম নয়। তার থেকেও বড় ব্যাপার এই যে এই পছন্দ-অপছন্দ আবার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। আজকে যা আপনার ভাল লাগছে, আগামীকালও যে সেটা আপনার ভাল লাগবে তার কোন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিক্তিতে কাউকে বিচার-বিবেচনা করাটা আমার কাছে সবসময় সঠিক বলে মনে হয় না।
অনেক কিছুই লিখে ফেললাম, মূল কথা হল আপনি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, দেখবেন আপনার চারপাশটা আপনা আপনিই বদলে যাবে।
অনেক কিছুই লিখে ফেললাম, মূল কথা হল আপনি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, দেখবেন আপনার চারপাশটা আপনা আপনিই বদলে যাবে।
পরিশেষে, কেউ আবার আমার সেই বন্ধুটি সম্পর্কে কোন বিশেষ ধারণা পোষণ করবেন না। বিভিন্ন সময় 'খাওয়া' অতঃপর আবার 'ছেড়ে দেয়ার' কারনে বিশেষ কোন সমস্যা দেখা দিতেই পারে। এরকম অন্তত একজন বন্ধু হয়ত সবারই আছে। আর আমি মূলত মানুষে - মানুষে পার্থক্য খুব কম করি, তাই সবার সাথেই ভাল সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করি। সাধারণতঃ অন্য কারও দ্বারা আমি প্রভাবিত হই না। যারা অন্যের দ্বারা খুব বেশি প্রভাবিত হয় তারা খুব দুর্বল ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন হয় অথবা তাদের নিজের কোন ব্যাক্তিত্ব বোধই থাকে না।
যাইহোক, আশা করব সে যেন এমন খাদ্যের সন্ধান পায় যা খাওয়ার পর আর ছাড়তে না হয়। তার অনেক দিনের ( সম্ভবত ১ম বর্ষে পড়ার সময় থেকেই ) ইচ্ছা ছিল আমাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের যার নাম সে পূর্বেই ঠিক করে রেখেছিল। আমার সেরকম কোন বিশেষ ইচ্ছা না থাকলেও মাঝে মধ্যে লেখালেখি করলে মন্দ হয় না।
Thursday, June 23, 2016
A trip to Mawa
দিনটা ছিল বৃহস্পতিবার (26 May 2016) পূর্ব নির্ধারিত হলেও কোনরকম পূর্ব-প্রস্তূতি আমাদের ছিলো না। অন্য সকল দিনের মতোই লাইব্রেরিতে পড়ালেখা করার চেষ্টা করছিলাম। অনেকটা একঘেয়ে দিন কাটছিলো তাই কোথাও থেকে ঘুরে আসাটা অনিবার্য ছিল। সবসময়ের মতোই আমাদের এই ঘুরে আসাটাও সকলের জন্যই উম্মুক্ত রাখা হয়েছিল কিন্ত শেষ পর্যন্ত আমরা তিন জন ব্যাতীত আর কারোই যাওয়ার মত সময় হয়নি।
দুপুরের খাবার শেষ করে নামাজ আদায়ের পর হলে চলে গেলাম কিছুক্ষন বিশ্রাম নেবার জন্য। তারপর দুপুর ৩.৩০ এর একটু আগেই আমি আর আব্দুল্লাহ বেরিয়ে পড়লাম সাথে মামুনকেও ডেকে নিলাম। উদ্দেশ্য ছিল কলা ভবন থেকে বাসে উঠে মাওয়ার পথে যাত্রা করা। যথাসময়ের কিছুক্ষন আগেই আমরা পৌঁছে গেলাম। বাস ছাড়তে আরও বেশ কিছুক্ষন বাকি থাকায় আমরাও সেখানে ঘোরাঘুরি করতে লাগলাম আর এই সময় বেশ কিছু ছবিও তুলে ফেললাম।
“A journey is best measured in friends, rather than miles.” – Tim Cahill
যাত্রার শুরু থেকেই আমার ইচ্ছে হচ্ছিল আজকে যদি আকাশটা মেঘলা হতো কিংবা বৃষ্টি হতো তবে খুবই ভাল লাগবে। কিন্ত তখনো পর্যন্ত বৃষ্টির কোন পূর্বাভাসই দেখা যাচ্ছিল না। যাইহোক ৩.৪৫ মিনিটে বাস ছাড়ল। বাইরে তখনো কড়া রোদ যা বাসের জানালা দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল তাছাড়া ঢাবির বাস তো আর A/C বাস না যে জানালা গুল বন্ধ রাখব তাই সেই সময় কিছুটা অস্বস্থি লাগছিল। তার উপর সেদিন রাস্তায় যানজট অন্য দিন গুলোর তুলনায় কিছুটা বেশিই ছিল। তবে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত আসার পর আমার মনের ইচ্ছেটা পূরণ হল। আকাশে মেঘ দেখা দিল মৃদু বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেল। ততক্ষনে যানজটও দূর হয়ে গেছে।
পিচ ঢালা রাস্তা ধরে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে বাস। আমরা তখন শহরের কোলাহল থেকে দূরে সবুজে ঘেরা একটা এলাকায় প্রবেশ করেছি। মেঘ আরও কিছুটা ভারী হয়ে এল। আমরা তিন জন ছাড়াও আরও অনেকেই সেদিন ঐ বাসে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল। দেখলাম তারাও খুব মজা করছিল, কেউ কেউ গ্রূপ সেলফিও তুলছিল। বাসের মানুষজন ততক্ষনে অনেকটাই কমে গেছে। আমরা তিন জন তিনটি ভিন্ন সিটে জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে আছি। বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির মডেল টাউনের প্লট গুল, শুটিং স্পট, নব নির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগার সবই একটার পর একটা ছাড়িয়ে এগিয়ে চলেছি। আনুমানিক ৫.৪৫ মিনিটে আমরা মাওয়া ঘাটে এসে পৌছলাম।
যেহেতু সন্ধ্যা হতে আর বেশিক্ষন বাকি নেই তাই ভাবলাম আগে কিছুটা ঘুরে দেখে নিই। সচরাচর বেশিরভাগ মানুষ এখানে ইলিশ খেতেই আসে। আমরাও তাই ঠিক করেছিলাম যাবার আগে ইলিশ খেয়েই যাব। কিন্ত সেদিন বিধাতার অশেষ রহমতে সন্ধ্যা হবার বেশ আগেই ঘন কাল মেঘে আকাশ ঢেকে গেল। ফলশ্রূতিতে আমরা তিন জন প্রকৃতির এক অনন্য সুন্দর রূপের সাক্ষী হয়ে রইলাম। কাল মেঘে আকাশের প্রায় সম্পূর্ণটাই তখন ডেকে গেছে। মনে হচ্ছিল আকাশটা যেন এক কাল পানির সমুদ্র আর মেঘ গুল সেখানে এক একটা বিশাল ঢেউ হয়ে সবকিছু গ্রাস করতে এগিয়ে আসছে।
বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে আমরা একটা ছোট ট্রলারের ভেতর আশ্রয় নিলাম। ধীরে ধীরে বৃষ্টিটা আরও বাড়তেই থাকল। সুযোগ খুঁজছিলাম কখন বৃষ্টিটা একটু কমবে আর আমরা ঘাটের ছাউনিতে গিয়ে আশ্রয় নিব। একসময় সুযোগ মিলল ঠিকই কিন্ত ঘাটে বেরিয়ে মনে হল আরো বিপদে পড়লাম কারণ সেখানে আসার আগেই বৃষ্টি আরও বেড়ে গেল আর আমরা মাঝ পথে আটকে পড়লাম। যাইহোক তারপর ২য় বার সুযোগ মিলতেই আমরা ঘাটের ছাউনিতে গিয়ে পৌঁছলাম।
বেশকিছুক্ষন ঘোরাঘুরির পর আমরা একটা চায়ের দোকানের সামনে আসলাম। তারপর চা খেতে খেতে অনেক্ষন আড্ডা দিলাম। হাতে চা আর সিগারেট সাথে বাইরে বৃষ্টি আর বিদ্যুৎ না থাকায় চারদিকটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর কি চাই? আড্ডা দেয়ার জন্য এর থেকে ভাল পরিবেশ আর হয় নাকি ?
অনেকটা সময় কাটিয়ে আমরা একটা হোটেলে ঢুকলাম ইলিশ ভাঁজি খাবার জন্য। ইলিশের চেহারা, সাইজ আর দাম দেখে কোন ভাবেই পছন্দ হচ্ছিল না। বেশির ভাগই কোল্ড স্টোরেজ থেকে নেয়া যা খাওয়ার মত না। শেষমেষ আমরা একটা ইলিশ পছন্দ করলাম তারপর সেটা খাবার জন্য তৈরি করা হল।
ইলিশটা বেশ সুস্বাদুই ছিল, খাবার শেষ করে আমরা আবার ফিরে আসার জন্যে তৈরি হলাম। শেষ বারের মত চায়ের দোকানে বসলাম চা শেষ হতে না হতেই আমরা বাসের টিকিট কেটে বাসে উঠে পড়লাম। ফেরার পথে যানজট কম থাকায় তাড়াতাড়িই চলে আসলাম।
যারা মাওয়া যেতে চান তাদের জন্য ঢাকা গুলিস্থান থেকে সরাসরি মাওয়া ঘাট পর্যন্ত বাস রয়েছে। খুব short একটা trip হলেও মনে রাখার মত অনেক কিছুই ছিল। হয়ত আবারও কখনো যাওয়া হতে পারে তবে সেই দিনের মত অনুভূতি আবারও হবে কিনা জানিনা।
Saturday, May 28, 2016
উপলদ্ধি ( পর্ব ৬ )
আমি যখন ক্লাস ৯ এ মেয়েটা তখন ক্লাস ৭ এ নতুন ভর্তি হয় । আমি আবার খুব মেধাবী ছাত্র (!) ছিলাম তো তাই তেমন একটা পাত্তা দিতাম না । আর তাছাড়া স্কুলের সবাই আমাকে Senior ভাই হিসেবে সম্মান করত ...... তাই ওসব চিন্তা বাদ !! কিন্তু ২ বছর পর যখন আমি ক্লাস ৯ এ ই থাকলাম আর সে চলে আসল আমাদের ক্লাসে , তখন বুঝলাম Failure is the Pillar of SUCCESS !!
বাস স্টেশনে দাড়িয়ে থাকলে যেমন একটার পর একটা বাস আসা-যাওয়া করে কখনও বেশি দেরি হয়ে যায় আবার কখনও সময়মতই চলে আসে । লাইফে ঠিক তেমনি একটার পর একটা প্রেম আসে আর যায় । তবে সব বাসই আপনাকে আপনার গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেয় না , ঠিক তেমনি সব প্রেমই পূর্ণতা পায় না ।
বি. দ্র. : উপরোক্ত কথাগুল বিভিন্ন সময় বিশেষ কিছু মানুষের থেকে শুনেছিলাম আর বাকিটা আমার কল্পনার মিশেল ।
বাস স্টেশনে দাড়িয়ে থাকলে যেমন একটার পর একটা বাস আসা-যাওয়া করে কখনও বেশি দেরি হয়ে যায় আবার কখনও সময়মতই চলে আসে । লাইফে ঠিক তেমনি একটার পর একটা প্রেম আসে আর যায় । তবে সব বাসই আপনাকে আপনার গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেয় না , ঠিক তেমনি সব প্রেমই পূর্ণতা পায় না ।
বি. দ্র. : উপরোক্ত কথাগুল বিভিন্ন সময় বিশেষ কিছু মানুষের থেকে শুনেছিলাম আর বাকিটা আমার কল্পনার মিশেল ।
Friday, April 29, 2016
দৌড়ের উপর আছি
গ্রীষ্মের
কাঠফাটা রোদে বাইরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আড্ডা দেয়াটা ভীষণ প্যাঁরাদায়ক হলেও
একসময় খুব আনন্দের সাথেই তা উপভোগ করতাম। ২০১২ সালের ঘটনা, সেদিন হয়ত স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশিই
গরম পড়েছিল। তাই বাসায় থেকে মুভি দেখাটাই
শ্রেয় মনে করেছিলাম । ভার্সিটিতে ক্লাস ছিল না কেননা তখন গ্রীষ্মকালীন অবকাশ চলছিল। তারপরেও খুব কম সময়ই বাসায় থাকা হত। ক্লাস না থাকলেও কখনও ক্যাম্পাসে কখনওবা
এলাকার চায়ের দোকানগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিয়েই কাটিয়ে দিতাম।
যাইহোক সেদিন
বাসায় থাকায় অনেক দিন ধরে জমে থাকা মুভিগুলো দেখে শেষ করব ভাবলাম। কিন্তু দুপুর ১২ টা পেরোতেই এক বন্ধুর ফোন আসল,
কি নাকি একটা কাজে মিরপুর ২ নাম্বার এসেছে ফিরে যাবার আগে আমার সাথে দেখা করতে চায়। কি আর করা তাকে মিরপুর স্টেডিয়ামের
সামনে থাকতে বললাম আর আমিও মুভি দেখা বাদ দিয়ে বেরিয়ে গেলাম তার খোঁজে। তখনও জানতাম না যে সেখানে গিয়ে এক নতুন টাইপের মুভি
দেখার অভিজ্ঞতা আমার হবে। :P
আমার এই বন্ধুটির
নাম হাসিব যার প্রধান কাজই ছিল বিভিন্ন কাজে ঝামেলা পাকানো,
কখনও কোন কাজ সে সঠিক ভাবে করতে পেরেছিল কিনা আমার মনে পড়ে না। যথাসময়ে আমি স্টেডিয়ামের পৌঁছে
গেলেও তার কোন খবর নেই। কিছুক্ষণ অপেক্ষা
করে ফোন করলাম . . . . .
-
হাসিব, কই তুমি ?
-
( হাপাতে হাপাতে ) ভাই একটু অপেক্ষা কর আসছি ।
-
কি হয়েছে তোমার ? কোন সমস্যা ?
-
ভাই, দৌড়ের উপর আছি ... এসে সব কিছু বলছি ।
আরও প্রায় ১০
মিনিট পর হাপাতে হাপাতে সে এসে হাজির হল। ততক্ষণে আমি এক কাপ চা শেষ করে সবে মাত্র একটা সিগারেট ধরিয়েছি। যাইহোক, পাশে বসে সে এমনভাবে হাঁপাচ্ছিল যে মনে
হচ্ছিল কোথাও থেকে পালিয়ে এসেছে ।
-
কি হয়েছে তোমার ? হাঁপাচ্ছ কেন ?
-
ভাই আর বলিও না, আজকালকার
মেয়েগুলা অনেক বদমাশ ।
[ বুঝতে পারলাম মেয়ে ঘটিত কোন
কেলেঙ্কারি হয়ত, কারন তার আবার অভ্যাস ছিল বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বালিকাদের ফোন নাম্বার
যোগাড় করে তাদের সাথে কথা বলা, কখনও কারও কারও সাথে প্রেম করারও চেষ্টাও হয়ত করেছিল। আবার বেশ কয়েকজন বালিকা
নাকি তার সাথে প্রতারণাও করেছিল। সে কারও
সাথে প্রতারণা করেছিল কি না জানি না তবে আমার জানামতে সে কিছুটা বোকা-সোকা
প্রকৃতিরই ছিল। তার ভাষায় সেই সকল
বালিকারা রমণী হলেও আমি তাদের বালিকাই বলতাম কারন তাদের কেউই প্রাপ্তবয়স্কা ছিল না। ]
আমি আবার
জিজ্ঞাসা করলাম . . . . .
-
আচ্ছা শান্ত হও। এবার বল কি হয়েছে ?
- কি আর বলব ! তোমার সাথে দেখা করব বলে অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ প্রকৃতির ডাক অনুভব করলাম, তারপর আশেপাশে
কোথাও এমন কোন জায়গা দেখলাম না যে সেখানে প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়া যায়। তাই ভাবলাম দেখি কিছুটা দূরে গিয়ে তেমন কোন
জায়গা পাই কি না। কিছু দূর যাবার পর মনে
হল চাপ কিছুটা বেড়েছে। তাই আর বেশি
খোঁজাখুঁজি না করে একটা বিল্ডিং এর নিচেই কাজটা সারার সিদ্ধান্ত নিলাম।
-
আর কোন জায়গা পাইলা না ? কাউকে অন্তত
জিজ্ঞাসা করলেও তো পারতা ।
-
কি করব বল ? চাপ তো বেশি ছিল ।
-
আচ্ছা তারপর কি হল ?
- সেটা ছিল একটা নির্মাণাধীন ভবন আর অপর একটা ভবনের পাশে, দুইটার মাঝে একটা চিপা
জায়গা ছিল সেই সময় আশেপাশেও কেউ ছিল না। চাপ বেশি থাকায় আর দেরি করলাম না। শুরু করে দিলাম, মনের আনন্দেই
কাজ সারছিলাম হঠাৎ আশেপাশে কোথা থেকে যেন রমণীদের হাসাহাসির আওয়াজ
আসতে লাগল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ
নেই কিন্তু তখনও আওয়াজ আসছেই। কিছুটা ভয়
লাগল, ভাবলাম ভর-দুপুরে আবার জিন-পরীর আছর হল নাকি ! একবার মনে হল উপর থেকে
আওয়াজটা আসছে। ভয়ে ভয়ে উপরে তাকিয়ে দেখি পাশের
বিল্ডিং এর বারান্দা থেকে রমণীদ্বয় তাদের মোবাইল ক্যামেরায় আমাকে
ভিডিও করছে। তারপর সেই অবস্থায়ই কোনমতে
দৌড়ে পালালাম। প্রকৃতির ডাক ছেড়ে
মাঝামাঝি অবস্থায় পালিয়ে এসেছিলাম। তারপর
পাশে দোকান থেকে কোনমতে টিস্যু কিনে চালিয়ে নিলাম। দোকানের লোকটাও আমার দিকে তাকিয়ে
দাঁত বের করে হাসছিল। বুঝতেই পারছ মান
ইজ্জতের ব্যাপার ।
[ এতটুকু শোনার
পর আমিও আর হাসি চেপে রাখতে পারলাম না। আমাকে হাসতে দেখে ও আরও রেগে গেল । ]
-
ওই মিয়া তুমি হাসতেছ ? আমার মান ইজ্জত নিয়া টানাটানি। এখন ঐ মেয়ে গুলা যদি
আমার ভিডিওটা youtube এ আপলোড করে দেয় ?
[ আমি তখনও হাসছিলাম দেখে ভীষণ
রাগ করল। আমি কোনমতে হাসি থামিয়ে বললাম .
. . ]
-
কিছুই হবে না। আর এইরকম ভিডিও হাজার
হাজার আছে। আর শুধু শুধু কেনই বা ভিডিও আপলোড করবে ?
-
যদি করে দেয় ?
-
বললাম তো কিছুই হবে না। আর মোবাইল ক্যামেরায় দূর থেকে স্পষ্ট আসারও কথা না। ভুল যা করার তা তো
করেই ফেলেছ । এখন আর এসব চিন্তা না করে
ভবিষ্যতের জন্য সাবধান হয়ে যাও ।
যাইহোক, বুঝতে
পারছিলাম আমার উপদেশ তার মনে ধরেনি। কি
আর করা চা-সিগারেট খাইয়ে আর সান্ত্বনা দিয়েই তাকে সেদিনের মত বিদায় দিয়েছিলাম। পরে আবার দেখা হলে তার থেকেই শুনেছিলাম
সে নাকি পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ youtube এ এই টাইপের অনেক ভিডিও সার্চ করেছিল তার ভিডিওটা সত্যিই কেউ
আপলোড দিয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হবার জন্য ।
Sunday, January 31, 2016
Friday, November 27, 2015
My crazy stupid thoughts ( Part 13 )
- As time changes, changing is necessary but not sufficient. If you can't change yourself with the time, then it will change everything against you.
- You may have thousands of reasons of your failure but at the end it only matters that you have failed.
Wednesday, October 14, 2015
মধ্যরাতের Comedy
আমার মত যারা নিশাচর প্রাণী তারা হয়ত রাতের বেলা অনেক ধরনের অভিজ্ঞতারই সম্মুখীন হয়েছেন। আমিও অনেকবার অনেক ধরনের অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি তবে আজকে যে ঘটনার কথা বলব সেটা ঘটেছিল October 31, 2014 প্রায় ১ বছর আগে।
আনুমানিক রাত ২.০১ মিনিটে ০১৭৮৭৯৯৪৯৭১ নাম্বার থেকে Call আসল। তারপর ......
- হ্যালো স্লামালেকুম ! কে বলছেন ??
- আমি এক পবিত্র আত্মার মাজার থেকে বলছি ...... তুই আমার সালাম কেন গ্রহন করলি না ?
[ ভাবলাম হয়ত কোন Friend মজা করছে কারন সবাই জানে যে আমি রাতের বেলায় সাধারণত জেগেই থাকি ]
- আরে ভাই সালাম তো আমি ই আগে দিলাম ...... আর কে আপনি ? কাকে চাচ্ছেন ?
- খামোশ ! বেয়াদপ !! তুই জানিস না তুই কত বড় ভুল করেছিস !!!
- ধুর ! আর ভাল্লাগছে না ...... অনেক দিন দেখা করি না, ফোন ও ধরি না তাই মন খারাপ তো ? Exam চলছে ... কি করুম?
- দেখা !! খুব শীঘ্রই তুই আমার দেখা পাবি ...... আমি জ্বীনের বাদশাহ হাবিবুল্লাহ বিন শায়খ !!
[ এইবার বুঝলাম এইটা অন্য কেস; মানে আতলা পাবলিক ]
- ওহ আচ্ছা ! আজকাল জ্বীনের বাদশাহ মোবাইল ব্যাবহার করে নাকি ? আবার রাত-বিরাতে ফোনও দেয় ।
- ওহে বেয়াদপ তোর দিন শেষ হয়ে এসেছে ...... তোর সব পাপের সাজা তুই পাবি ।
তোকে বিগত বৃহস্পতিবার বাদ আসর সালাম পাঠানো হয়েছিল তার উত্তর তুই দিস নাই
...... আগামী শুক্রবার বাদ আসর তুই রক্তবমি করে মারা যাবি । দুনিয়ার
কোন ডাক্তার কবিরাজ তোকে বাচাতে পারবে না ।
- তাই নাকি ?? ইন্না লিল্লাহ ............
- তোর সারা শরীর কালো বর্ণ ধারন করবে ... চোখ দুটো সাদা হয়ে যাবে
...... কেউ তোকে দাফন করতে আসবে না ... লোকজন তোর লাশ দেখে ভয় পাবে
......... মুক্তির আর কোন উপায় নেই ....... তোর ভুলের জন্য তওবা কর ।
- আচ্ছা ভাল !! আমার চল্লিশার দাওয়াত রইল ...... আইসা খাইয়া যাইয়েন গরম গরম :P
[ এই পর্যায়ে আঁতেল টা বুঝতে পারছে যে এইখানে বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না ]
- বাঁচতে চাইলে একটাই উপায় ...... জানের বদলা জান দিতে হবে ।
- মানে ?
- আগামীকাল জুমার নামাজের পর তোর জানের সদ্গা হিসেবে একটা গরু কুরবানি
দিতে হবে .... তার গোশত দেশের সব মাজারে বিলাইতে হবে ...... আর ......
- আর কি ??
- বাবার মাজারে বিশেষ দোয়া পরতে হবে ।
- কি বিশেষ দোয়া ?
- সেটা তুই বুঝবি না । তার জন্য হাদিয়া লাগবে ১০ হাজার টাকা । আগামী ৮ ঘণ্টার মধ্যে টাকা বিকাশ করে এই নাম্বারে পাঠাতে হবে ।
- ওরে চান্দুরে !! এই কাহিনি ......
[ তারপর লাইন কাটিয়া গেল; কয়েক বার চেষ্টা করেও আর লাইন পাওয়া যাই নাই ]
:o লোকজন যে আজকাল কত ধান্দা বাইর করছে .........
Wednesday, September 2, 2015
Saturday, February 7, 2015
Sunday, January 4, 2015
My crazy stupid thoughts ( Part 10 )
- I'm sorry .... Sometimes I don't actually mean what I say and of course I'm not the perfect one but may be a little special compared to others !!
- Some memories that hunts us down . Just let it go and find peace yourself . Remember you are the only solution of it .
Saturday, December 27, 2014
My crazy stupid thoughts ( Part 9 )
- God sends an angel for everyone !
- You may not be aware of that but God always sends someone to show you the right path . I still don't know when God will send one for me !!
- If you don't find one for yourself, then you may be the angel for someone else !!!
Monday, October 13, 2014
My crazy stupid thoughts ( Part 8 )
- If you loose everything and win the war, you may be a hero but if you loose everything and loose the war , you are nothing but a looser.
- If you are good at something, don't do it for free. People won't realize the value of your work if you do it free for them.